বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কার। আর এই এআই বিপ্লবের কেন্দ্রে রয়েছে ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT)। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী—সবার মুখে মুখে এখন এই নাম। তবে আমরা প্রতিদিন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও এর পূর্ণরূপ বা ‘GPT’ শব্দের পেছনের আসল রহস্যটি অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর মনে হলেও সত্য যে, এই তিনটি অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আধুনিক প্রযুক্তির এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন।
GPT-এর পূর্ণরূপ ও এর তাৎপর্য GPT হলো মূলত ‘Generative Pre-trained Transformer’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই তিনটি শব্দের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে এআই-এর এক অনন্য মস্তিষ্ক। এর প্রতিটি অংশের কাজ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
১. জেনারেটিভ (Generative): নতুন কিছু তৈরির কারিগর
প্রচলিত এআই যেখানে কেবল ডেটা বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস দিতে পারত, সেখানে জেনারেটিভ এআই সম্পূর্ণ নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম। এটি মানুষের ভাষার ধরন বুঝে মৌলিক প্রবন্ধ, কোড, ইমেইল থেকে শুরু করে কবিতাও লিখে দিতে পারে। মানুষের মতো সৃজনশীল ও সুসংগত আউটপুট দেওয়াই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
২. প্রি-ট্রেইনড (Pre-Trained): বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার
একটি মডেলকে কাজে লাগানোর আগে তাকে কয়েক হাজার কোটি শব্দ, বই, প্রবন্ধ ও ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষা দেওয়া হয়। একেই বলা হয় ‘প্রি-ট্রেনিং’। এই নিবিড় প্রশিক্ষণের ফলে চ্যাটজিপিটি ভাষা, ব্যাকরণ এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করে। ফলে এটি আলাদা কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই জটিল প্রশ্নের উত্তর অনায়াসেই দিতে পারে।
৩. ট্রান্সফরমার (Transformer): এআই-এর প্রযুক্তিগত মস্তিষ্ক
ট্রান্সফরমার হলো চ্যাটজিপিটির স্থাপত্য বা আর্কিটেকচার। ২০১৭ সালে গুগল গবেষকদের হাত ধরে আসা এই প্রযুক্তি ভাষা প্রক্রিয়াজাত করার ধারণাকেই বদলে দিয়েছে। এর ‘অ্যাটেনশন মেকানিজম’ ব্যবহার করে এটি একটি দীর্ঘ বাক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটিকে শনাক্ত করতে পারে। আগেকার এআই মডেলগুলো দীর্ঘ লেখায় খেই হারিয়ে ফেললেও ট্রান্সফরমার প্রযুক্তি পুরো লেখাটিকে একসাথে বিশ্লেষণ করে প্রেক্ষাপট ধরে রাখতে পারে।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
GPT এখন কেবল লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক ‘মাল্টিমোডাল’ সংস্করণগুলোর মাধ্যমে এটি এখন ছবি, অডিও এবং ভিডিও বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনসহ প্রতিটি খাতে এটি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। মূলত এই তিনটি প্রযুক্তির মিশেলেই চ্যাটজিপিটি আজ মানবসভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

