কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-কে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উন্মাদনায় এবার কিছুটা ভাটা পড়ছে। এআই প্রযুক্তির বিপুল ব্যয় এবং মুনাফার অনিশ্চয়তা নিয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত ওপেনএআই প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার (১৬৮ বিলিয়ন) তহবিল সংগ্রহ করেছে। তবে সম্প্রতি এনভিডিয়া-এর প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, তাদের কোম্পানি ওপেনএআই-তে আরও ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। তবে এটিই হতে পারে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে শেষ বড় বিনিয়োগ। এর আগে অবকাঠামো খাতে ১ লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা ছিল, তাও আপাতত স্থগিত রয়েছে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপেনএআই-তে বিনিয়োগ এখন অনেক বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটির কাঁধে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের ঋণের বোঝা রয়েছে, অথচ এখন পর্যন্ত তারা লাভজনক ব্যবসার কোনো পরিষ্কার পথ দেখাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই প্রযুক্তি ও কম্পিউটার শক্তি বজায় রাখতে ওপেনএআই-এর খরচ ৬০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র ডেটা সেন্টারের ভাড়ার পেছনেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬২০ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানিটির বর্তমানে প্রায় ৯০ কোটি ব্যবহারকারী থাকলেও তাদের সিংহভাগই বিনা মূল্যের সেবা গ্রহণকারী, যা বড় অঙ্কের রাজস্ব আহরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওপেনএআই-এর প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মাইক্রোসফটের ‘আজুর’ ক্লাউড সেবার প্রবৃদ্ধিও সম্প্রতি কিছুটা কমেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মাইক্রোসফটের শেয়ার বাজারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ওপেনএআই-কে বছরে অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে, নতুবা বর্তমান বাজারমূল্য ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কিছু বিশেষজ্ঞ বর্তমানের এই এআই উন্মাদনাকে ২০০০ সালের ‘ডট-কম’ বুদবুদের (Dot-com bubble) সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেক বিনিয়োগকারী পুরোপুরি পিছিয়ে যাচ্ছেন না। তাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তিতে যে বিশাল বাজার তৈরি হবে, সেখানে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
ইরান যুদ্ধের কারণে সাইবার হামলার শঙ্কা
ফেসবুকে সমস্যা, আইডি দেখাচ্ছে ‘আনএভেইলেভল’
