কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিল ক্লিনটনের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ক্লিনটন দম্পতির এই সিদ্ধান্তের ফলে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে তাদের বিরুদ্ধে ‘কংগ্রেস অবমাননা’র অভিযোগে সম্ভাব্য ফৌজদারি ব্যবস্থা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
ক্লিনটন দম্পতির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য প্রযোজ্য এমন একটি স্বচ্ছ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে তারা আগ্রহী।’
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটি অভিযোগ করেছিল যে, ক্লিনটনরা আইনসম্মত সমন অমান্য করে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কমিটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘ক্লিনটনরা আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত সপ্তাহে তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার সুপারিশও করেছিল কমিটি।
তবে এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুরক্ষা দিতেই এই তদন্তকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রিপাবলিকানরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন সাক্ষ্যের জন্য ডাকা হচ্ছে না।
রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০০-এর দশকের শুরুতে বিল ক্লিনটন কয়েকবার এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বা অর্থবহ যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির আঁচ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, যুক্তরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে ৫ হাজার বার আসার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। এই কেলেঙ্কারিতে ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও আগে থেকেই জড়িয়ে আছে।
এপস্টেইন নথিতে উঠে এসেছে শেখ হাসিনার নাম
ট্রাম্পের স্বাক্ষরে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পথ খুললো
