ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হলে আরও ভয়াবহ হবে: রিজভী

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

ধর্মের নামে নতুন কায়দায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হলে তা আরও ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জমানের তর্কের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের গেটে এক প্রার্থীর অশোভন আচরণ ফ্যাসিবাদী ও হিংসাশ্রয়ী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের অবমাননা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না। গণতন্ত্র মানে সভ্যতা, প্রগতি ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জনগণ সবকিছু দেখছে ও বিচার করছে। ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হলে জনগণই গণতন্ত্রকামী শক্তির পক্ষে রায় দেবে-এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জনগণ এদেশে সব সময় ন্যায়সঙ্গত বিচার করেছে। ভোট দেওয়ার অধিকার যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন অবশ্যই ঘটবে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন একটি দীর্ঘ রক্তঝরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফল। গত ১৬–১৭ বছর ধরে দেশের ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের দিন যে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, তা পরাজিত ফ্যাসিবাদ ধ্বংস করেছে। নির্বাচন মানেই তখন ছিল কেন্দ্র দখল, ভোট লুট ও ভয়ের সংস্কৃতি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সেই সময় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, কোথাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কোথাও মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গণতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সেই দুঃসময়ে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। কমিশন যখন বিএনপির অভিযোগ শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তখন সাংবাদিকরাই সেই বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। গভীর রাতে কালো মাইক্রোবাসে নেতা-কর্মীদের তুলে নেওয়ার ঘটনাগুলো সাংবাদিকরা কাভার করেছেন। পুলিশ অস্বীকার করলেও সাংবাদিকদের প্রকাশনার কারণে অনেককে গুমের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। সীমিত স্বাধীনতার মধ্যেও অনলাইন ও স্ক্রলের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতা-কর্মীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।’ এ জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

SN
আরও পড়ুন