আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া ‘ঐক্যবদ্ধ সরকার’ গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
দীর্ঘ দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করি? যদি তাই হয়, তবে বিরোধী দল হিসেবে কারা থাকবে?’
জামায়াতের ভোটের ফলাফলের সম্ভাবনা নিয়ে তারেক রহমান মন্তব্য করেন, ‘আমি জানি না তারা কতগুলো আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে আমি তাদের একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে প্রত্যাশা করি।’
বিএনপি সূত্রমতে, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে তারা নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলো মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপারে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব আশাবাদী।
ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে তারেক রহমান জানান, ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই হবে তার সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যারা আমাদের দেশের মানুষের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব নিয়ে আসবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখব। কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে থাকা আমাদের লক্ষ্য নয়।’
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান উদার মনোভাব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তবে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে পরিস্থিতি নিরাপদ না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এখানে স্বাগত।
তারেক রহমানকে নির্বাচনি বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৩৮ দেশের কূটনীতিকের অংশগ্রহণ
