ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে জয়লাভের পর বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আইন অনুযায়ী একাধিক আসনে বিজয়ী হলেও মাত্র একটি আসন ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একাধিক আসনে নির্বাচিত হলে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হয় তিনি কোন আসনটি রাখতে চান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে সব আসনই শূন্য হওয়ার আইনগত ঝুঁকি থাকে।
আরপিও-এর ধারা ১৯(১)(খ) অনুযায়ী এক ব্যক্তি একাধিক আসনে প্রার্থী হতে পারলেও ১৯(২) ধারা অনুযায়ী একটির বেশি আসন রাখার সুযোগ নেই।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-১৭ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। অর্থাৎ ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জয়ী হন তিনি। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৮ জন।
অন্যদিকে, বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে তারেক রহমান রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৭ আসনটিই নিজের সংসদীয় এলাকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর ফলে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষিত হবে এবং সেখানে পরবর্তীতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

