দীর্ঘ দেড় বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শেষে নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক বিদায়ী ভাষণ দেন তিনি। ভাষণ শেষে কার্যালয়ে কর্মরত সবার সঙ্গে এক ফটোসেশনে অংশ নেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে গত দেড় বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য কার্যালয়ের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট রাষ্ট্র সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। গত দেড় বছরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেড় হাজারের বেশি ছোট-বড় আন্দোলন সামলানো এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি।
ড. ইউনূসের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যকাল শেষ হবে।
বিদায়ী বক্তব্যে ড. ইউনূস তার সরকারের সহযাত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

