প্রাপ্ত বয়স্ক নারী, পুরুষ সবার জন্য রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোজা না রাখার এবং কাজা ও ফিদইয়া আদায়ের বিধান রয়েছে। সাধারণ অবস্থায় গর্ভবতী নারীর জন্যও রোজা রাখা ফরজ।
গর্ভবতী নারী যদি রোজার রাখার কারণে তার নিজের বা গর্ভের সন্তানের ক্ষতি ও সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয় তাহলে গর্ভবতী নারীর জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে। তবে পরবর্তীতে এই রোজার কাজা আদায় করে নিতে হবে।
পবিত্র কোরেআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)
এ প্রসঙ্গে সাহাবি আনাস বিন মালেক (রা.) একটি ঘটনা বিখ্যাত। তিনি বলেন—
এক সফরে আমাদের ওপর রাসুল (সা.)-এর অশ্বারোহী বাহিনী হঠাৎ আক্রমণ করল। আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট এলাম। আমি তখন তাকে সকালের নাস্তা খেতে দেখতে পেলাম।
তিনি বললেন, কাছে আসো এবং খাও। আমি বললাম, আমি রোজা আছি। তিনি বললেন, সামনে আসো, আমি তোমাকে রোজা প্রসঙ্গে কথা বলব। আল্লাহ তায়ালা মুসাফির লোকের রোজা ও অর্ধেক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন; আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী নারীদের রোজা মাফ করে দিয়েছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৭১৫)
এই হাদিসের ভিত্তিতে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী নারী রমজানের রোজা ভাঙতে পারবে। তবে পরে তা কাজা করে নেবে। রোজার বদলে মিসকিনদের খাওয়াবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৫৬৪)

