হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০১:১৩ এএম

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। 

 

কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে মঙ্গলবার (২ জুন) বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়। 

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা করেননি। 

 

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই তিনি এখনও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে খুব কমই উঠে আসে। 

 

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। 

 

তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। 

 

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তিনি এ বিষয়ে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে।

 

কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখন এই প্রসঙ্গ সামনে আনলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।

HN
আরও পড়ুন