প্রকৌশলবিদ্যার ইতিহাস বদলে দেওয়া মেনাই স্ট্রেট ব্রিজ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পিএম

উত্তর ওয়েলসের মূল ভূখণ্ড এবং অ্যাঙ্গলসি দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত মেনাই স্ট্রেট ব্রিজ (Menai Strait Bridge) সম্প্রতি তার নির্মাণের ২০০ বছর পূর্ণ হলো। কৌশলী টমাস টেলফোর্ড-এর নকশা করা এই সেতুটি সেই সময়ে প্রকৌশলবিদ্যার এক অসাধ্য সাধন করেছিলেন বলে বিবেচিত ছিলো।

প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

মূলত ১৮০০ সালে আয়ারল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন যুক্ত হওয়ার পর লন্ডন এবং ডাবলিনের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সে সময় মেনাই প্রণালীর উত্তাল ঢেউ পাড়ি দেওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফেরি পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং জোয়ারের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল। এই সমস্যা সমাধানে ১৮১৫ সালে সরকার লন্ডন থেকে হোলিহেড পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়, যার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল এই সেতু।

প্রকৌশলগত বিস্ময়

টেলফোর্ড প্রথাগত ভায়াডাক্ট বা পিলারের পরিবর্তে একটি ঝুলন্ত সেতুর সাহসী পরিকল্পনা করেন। এর মূল ডেকটি ১৬টি বিশাল লোহার চেইনের সাহায্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি চেইন ৯৩৫টি রট আয়রন বার দিয়ে তৈরি ছিল। ১৮৮৩ সালে ব্রুকলিন ব্রিজ তৈরির আগ পর্যন্ত এটিই ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু। টেলফোর্ড তার পাথরের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় চুনাপাথর দিয়ে এর মজবুত টাওয়ারগুলো নির্মাণ করেন।

প্রভাব ও বর্তমান অবস্থা

সেতুটি চালু হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। ডাক যোগাযোগ দ্রুততর হয় এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে ব্রিটেনের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ২০০ বছর পরেও এই সেতুটি সচল রয়েছে, যদিও ১৯৩০-এর দশকে লোহার চেইনগুলো ইস্পাত দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি স্থানীয়দের কাছে এক আবেগের নাম এবং পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। এমনকি ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিশেষ প্রোটোকলেও (অপারেশন মেনাই ব্রিজ) এর নাম জড়িয়ে আছে। এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং মানুষের সৃজনশীলতা ও সাহসিকতার এক অমর নিদর্শন।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত