ইসরায়েলের আগ্রাসনে লেবাননে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদে ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে। হামলার মুখে দক্ষিণ লেবানন থেকে যারা এখনো সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইসরায়েল সেখানকার অবকাঠামো, বিশেষ করে লিটানি নদীর ওপরের সেতুগুলোতে হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি সেতু অক্ষত আছে। 

ফলে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে অন্য কোথাও যাওয়াটা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এখন অত্যন্ত দুঃসাধ্য এক কাজ। তাছাড়া, এলাকা ছেড়ে কোথায় যাবেন- সে প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ‘সীমিত পরিসরে’ স্থল অভিযান শুরু করেছে। প্রতিবেশী দেশটিতে বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখের বেশি। তাদের অনেকে রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন।

বৈরুতে গিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো বিদ্যালয় ও সরকারি ভবনে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করছেন। অনেকে নিজেদের গাড়িতে বা রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। বিশাল সংখ্যক মানুষের এই স্থানচ্যুতি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে শুক্রবার নতুন করে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয়রা বলছেন, নিজেদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে হচ্ছে। কবে ফিরতে পারবেন তার কিছুই জানেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলও সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম ও শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। লেবাননে সংস্থাটির প্রতিনিধি ক্যারোলিনা লিন্ডহোম সাংবাদিকদের বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এখন বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।

AHA
আরও পড়ুন