মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে চরম জ্বালানি সংকটে পড়েছে ফিলিপাইন। তেলের সরবরাহ না থাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির ৩০০-এরও বেশি পেট্রোল পাম্প বা জ্বালানি স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ফিলিপাইন সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সংস্থার বরাতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষণ সেল জানিয়েছে, আজ সোমবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৬৫টি জ্বালানি স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত তেলের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়া এবং নতুন করে সরবরাহ না পাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে পাম্প বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফিলিপাইনের বাজারে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো যারা আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তেলের এই কৃত্রিম ও প্রকৃত সংকট দ্রুত নিরসন না হলে ফিলিপাইনের অর্থনীতি বড় ধরণের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ফিলিপাইন, বাড়বে দাম
