মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত জ্বালানি অবরোধ ভেঙে একটি রুশ পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ সোমবার কিউবায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল বহনকারী ট্যাংকার ‘আনাতোলি কোলদকিন’ কিউবার মাতানজাস বন্দরে পৌঁছেছে। তবে জাহাজটির অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি; জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী সোমবার সকালে এটি কিউবার উপকূলের কাছাকাছি ছিল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, জাহাজটি কিউবায় পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই বিষয়টি আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। প্রধান তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অন্য দেশগুলোকে তেল সরবরাহ করলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়।
এই কার্যত তেল অবরোধের ফলে কিউবায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আবর্জনা জমে থাকা, হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াসহ গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেন যে একটি ট্যাংকার কিউবার দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি ট্যাংকার আছে। কেউ যদি এক জাহাজ তেল নিয়ে যায়, তাতে আমাদের আপত্তি নেই, কারণ তাদের বেঁচে থাকতে হবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে যদি কোনো দেশ কিউবায় তেল পাঠাতে চায়, সেটা রাশিয়া হোক বা অন্য কেউ, আমার কোনো সমস্যা নেই।
মানুষের গরম রাখা, ঠান্ডা রাখা এবং প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর জন্য জ্বালানি দরকার।’
ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কিউবায় জ্বালানি সংকট তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে কিউবায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা ও সময় বেড়েছে, জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, দাম বেড়েছে এবং অবকাঠামোর অবনতি হয়েছে। গত এক মাসেই একাধিকবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, ফলে রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন শহর অন্ধকারে ডুবে যায়।
এই সংকট জনসেবাতেও প্রভাব ফেলেছে এবং খাদ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে কিছু শহরে বিরল প্রতিবাদও দেখা গেছে। মানুষ হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে এবং অন্ধকারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা কিউবা সরকারকে সহায়তা দেওয়ার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করছে।
তবে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের লাভ হচ্ছে, এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সে শুধু এক জাহাজ তেল হারাল, এই পর্যন্তই। যদি সে এটা করতে চায় বা অন্য দেশগুলো করতে চায়, এতে আমার তেমন কিছু যায় আসে না।’ সূত্র: সিএনএন
কিউবার সংকটময় মুহূর্তে পাশে থাকবে রাশিয়া
