যে কারণে খোঁজা হচ্ছে ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পিএম

ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করা পেন্টাগনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান এবং বিমান বিধ্বস্তের কারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ দিয়েছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা হারলান উলম্যান।

হারলান উলম্যানের মতে, গত কয়েক দিনের অসংখ্য আকাশ অভিযানের তুলনায় মাত্র দুটি বিমান হারানো মার্কিন বাহিনীর জন্য খুব বড় কোনো বিপর্যয় নয়। তিনি বলেন, ‘শান্তিকালীন সাধারণ প্রশিক্ষণের সময়ও অনেক সময় এর চেয়ে বেশি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তাই এই ক্ষতিকে যুদ্ধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে।’

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে উলম্যান বলেন, ‘আমেরিকার হাতে বিশ্বের সেরা ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ টিম রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জটা অন্য জায়গায়। নিখোঁজ ওই ক্রু সদস্য হয়তো আহত অবস্থায় আছেন। ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে ওই এলাকায় ব্যাপক চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো তাঁর কাছে বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত পানি বা রসদ আছে কি না এবং তাঁর সিগন্যাল পাঠানোর যন্ত্রগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না।’

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি উলম্যান দিয়েছেন বিমানের বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে। তিনি মনে করেন না যে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা বড় কোনো মিসাইল দিয়ে এগুলো ধ্বংস করেছে। উলম্যান বলেন, ‘আমার ধারণা, এফ-১৫ এবং এ-১০ যুদ্ধবিমান দুটি মূলত ‘স্মল আর্মস’ বা সাধারণ ছোট অস্ত্রের গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, তবে ইরানের হাতে বর্তমানে খুব শক্তিশালী রাডার-চালিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানের মধ্যাঞ্চলে একটি এফ-১৫ই এবং পারস্য সাগরের কাছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ-১০-এর পাইলট এবং এফ-১৫ই-র একজন ক্রুকে উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্য এখনো নিখোঁজ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ওই নিখোঁজ সেনাকে খুঁজছে একজন জীবিত ধরতে, অন্যজন উদ্ধার করতে।

NB/
আরও পড়ুন