ইউক্রেন রণক্ষেত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঘাতক রোবট বাহিনী

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ এখন আর কেবল রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রূপ নিয়েছে এক উচ্চ প্রযুক্তির সংঘাত বা ‘হাই-টেক ওয়ারফেয়ার’-এ। আকাশে ড্রোনের রাজত্বের পর এবার রণক্ষেত্রে সরাসরি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সশস্ত্র রোবট বা ‘আনক্রুড গ্রাউন্ড ভেহিকল’ (UGV)। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই নতুন সমরাস্ত্র সম্মুখ সমরে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠছে।

ইউক্রেনের ২৫তম এয়ারবর্ন ব্রিগেডের এক ড্রোন অপারেটর জানান, ‘এটি কোনো স্টার ওয়ার্স মুভি নয় যেখানে লেজার যুদ্ধ হয়। সম্মুখ সমরের চিত্রটা এখন অনেকটা ‘টার্মিনেটর’ সিনেমার মতো। যখন একটি ল্যান্ড রোবট আপনার অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসে, তখন আপনার করার কিছু থাকে না। মানুষকে গুলি করলে সে থেমে যায়, কিন্তু রোবট কোনো ব্যথা অনুভব করে না। পর্দার ওপার থেকে কেউ একজন এটিকে নিয়ন্ত্রণ করে পাল্টা গুলি চালাচ্ছে।’

২০২৪ সালের বসন্তকাল থেকে এই চালকবিহীন স্থলযানের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজই করছে এই ল্যান্ড রোবটগুলো। জানুয়ারি মাসে এই ধরণের ইউজিভি ব্যবহার করে রেকর্ড ৭,০০০টি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এগুলো খাবার, গোলাবারুদ এবং বাঙ্কার তৈরির সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে এবং একবারে তিন জন আহত সেনাকে রণক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে আনতে সক্ষম।

রসদ সরবরাহের বাইরেও এগুলো এখন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। রিমোট নিয়ন্ত্রিত মেশিনগান ও গ্রেনেড লঞ্চারে সজ্জিত এই রোবটগুলো একনাগাড়ে ৪৫ দিন পর্যন্ত একটি অবস্থান রক্ষা করতে পারে। গত গ্রীষ্মে ২০০ কেজি বিস্ফোরক বহনকারী একটি ‘কামিকাজে রোবট’ ১২ মাইল পাড়ি দিয়ে রুশ সেনাদের আস্তানায় হামলা চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সশস্ত্র রোবটের কাছে রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণের ঘটনাও ঘটেছে।

রুশ আগ্রাসন কিয়েভকে আধুনিক ড্রোন ও রোবট উন্নয়নের এক অনন্য গবেষণাগারে পরিণত করেছে। ইঞ্জিনিয়াররা নতুন ডিজাইন তৈরি করছেন এবং সম্মুখ সারির সৈন্যরা তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক দিচ্ছেন। ইউক্রেনের এই অভিজ্ঞতা এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সম্প্রতি সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর সাথে ১০ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে ইউক্রেন, যার আওতায় দেশগুলোকে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে।

ইউক্রেনের ৩য় কোরের কমান্ডার আন্দ্রি বিলেটস্কি বলেন, ‘আমরা আরও একটি বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। স্থলভিত্তিক এই রোবোটিক সিস্টেমগুলো রণক্ষেত্রের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে। এটি রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে সরাসরি যুদ্ধ পর্যন্ত বিশাল সংখ্যক সৈন্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।’

রাশিয়াও ‘কুরিয়ার’ নামক নিজস্ব রোবট বাহিনী মোতায়েন করলেও প্রযুক্তির লড়াইয়ে ইউক্রেন বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

NB/
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত