ইরান যুদ্ধে থাইল্যান্ডের ৭০০ কোটি ডলারের মৎস্য শিল্পে ধস

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ এএম

থাইল্যান্ডের চনবুরি প্রদেশের ব্যাং সারে জেটিতে আগের সেই কোলাহল আর নেই। মাছের আশায় ঘাটে আসা ক্রেতারা অপেক্ষা করলেও চারপাশে নেমে এসেছে অদ্ভুত নীরবতা।

মধ্যপ্রাচ্যের দূরবর্তী এক যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে থাইল্যান্ডের উপকূলে, আর তার মাশুল দিচ্ছেন কয়েক লাখ মৎস্যজীবী। প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল মৎস্য শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে।

সংকটের সূত্রপাত মূলত, যখন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ করে দেয়। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। 

বর্তমানে থাইল্যান্ডে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৪৫ বাথ ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি আঘাত হেনেছে মৎস্য খাতে। সমুদ্রে যেতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তা মাছ বিক্রি করে তোলা আয়ের চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ফলে অনেক জেলেই বাধ্য হয়ে তাদের ট্রলার বন্দরে ফেলে রেখেছেন। থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক মাছ ধরার নৌযান এখন অচল হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ ট্রলার সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, যা পুরো শিল্পের জন্য মারাত্মক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করে জানিয়েছে, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে এই খাত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরেই এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা দেবে। চনবুরি অঞ্চলের জেটিগুলোতে নৌকার মালিকরা এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

একদিকে জ্বালানির রেকর্ড মূল্য, অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরিÑসব মিলিয়ে তারা টিকে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা না থাকায় ক্ষুদ্র অর্থনীতিগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।

সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে শহরের বাজার ও রেস্তোরাঁগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। 

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ২০২৪ সালে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে যায়। এই শিল্পের ধস নামলে দেশের অর্থনীতি এবং হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

HN
আরও পড়ুন