রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গণ-অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মধ্যরাতেই রাজপথে নেমে এসেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মধ্যরাতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
‘জাস্টিস ফর রামিসা’ স্লোগানে মুখর মিরপুর
অবরোধকারী বিক্ষুব্ধ জনতা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’ এবং ‘খুনির ফাঁসি চাই’ স্লোগানে পুরো মিরপুর এলাকা মুখরিত করে তোলেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে— ‘আমার বোন খুন হলো কেন?’, ‘অপরাধীর আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ সহ বিভিন্ন ক্ষুব্ধ স্লোগান শোনা যায়।
আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই বারবার এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে। তারা সাফ জানিয়ে দেন, কোনো টালবাহানা চলবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস: এর আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভুক্তভোগী শিশু রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।
যেভাবে উদ্ধার হয় রামিসার মরদেহ
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হত্যার ঘটনাটি প্রকাশ্য আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় ওঠে।
প্রধান আসামি গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি
পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর পরই মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু গ্রেফতার নয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নরপিশাচের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে তীব্র উত্তেজনা
শিশু রামিসা হত্যা: বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী