ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে তীব্র উত্তেজনা

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪১ এএম

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার এক ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই ফোনালাপে তেহরানকে মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য জানানো হয়েছে।

‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ ও ট্রাম্পের পিছুটান

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার নেতানিয়াহুর সাথে এক আলাপে ট্রাম্প নিজেই এই পরিকল্পনার কথা জানান। সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’।

তবে নাটকীয়ভাবে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। জানা গেছে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো প্রধান উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধের পর ট্রাম্প মঙ্গলবার নির্ধারিত এই হামলা স্থগিত ঘোষণা করেন।

কূটনৈতিক তৎপরতা: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলো হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের সহায়তায় নতুন করে একটি কূটনৈতিক আলোচনার কাঠামো তৈরির জন্য জোরালো মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফোনালাপে ক্ষোভ উগরে দিলেন নেতানিয়াহু

হামলা বাতিলের এই সিদ্ধান্তই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বিরোধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার এক ঘণ্টার সেই উত্তপ্ত ফোনালাপে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, হামলা স্থগিত করাটা একটি ‘বড় ভুল’ ছিল। একই সাথে তিনি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন:

"মতপার্থক্যটা এখন একদম স্পষ্ট। ট্রাম্প দেখতে চান আলোচনার মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কিনা, কিন্তু নেতানিয়াহু মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অন্য কিছু (সামরিক পদক্ষেপ) প্রত্যাশা করছিলেন।"

ট্রাম্পের আলটিমেটাম ও ইসরায়েলের হতাশা

বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, "আমরা ইরানের সাথে আলোচনার শেষ পর্যায়ে আছি। দেখা যাক কী হয়। হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের এমন কিছু করতে হবে যা কিছুটা অপ্রীতিকর হবে। তবে আশা করি তেমনটা ঘটবে না।"

অন্যদিকে, তেহরানের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই চরম আক্রমণাত্মক অবস্থানে থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই বিলম্বের কারণে ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন। ইসরাইলি প্রশাসনের মতে, এই সামরিক নিষ্ক্রিয়তা প্রকারান্তরে ইরানের অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করছে।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল এবং জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ‘সময়ক্ষেপণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নতুন করে হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এটিই প্রথম মতবিরোধ নয়, তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দুই শীর্ষ মিত্রের এমন দূরত্বের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত