দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের চরম উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও স্বস্তিতে নেই পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ এবং ওয়াশিংটনের ‘দ্রুত জয়’ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা। এমনকি যুদ্ধবিরতির এই দুই সপ্তাহও জাহাজ চলাচল ইরানি সামরিক বাহিনীর ‘সমন্বয়’ ছাড়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের বিশেষজ্ঞ হিশাম আলঘান্নাম বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে যে, ট্রাম্প একটি দ্রুত রাজনৈতিক বিজয় হাসিলের জন্য হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে মেনে নিতে পারেন। এটি হলে উপসাগরীয় দেশগুলো চিরকাল ইরানের অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল ও কৌশলগত চাপের মুখে থাকবে।’
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের জন্য একটি যৌথ মার্কিন-ইরান উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউস পরে বলেছে যে ট্রাম্প সব ধরনের সীমাবদ্ধতামুক্ত রুট চান, তবুও এই ‘টোল’ আদায়ের ধারণাটি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি দুঃস্বপ্ন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরব বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীকে ইরানের দরকষাকষির ঘুঁটি হতে দেওয়া যাবে না। জাতিসংঘে আমিরাতের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবুশাহাব বলেছেন, ‘বিশ্ববাণিজ্যের ধমনী বন্ধ করার ক্ষমতা কোনো একক দেশের থাকা উচিত নয়।’
উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, যদি মার্কিন-ইরান চুক্তিতে তাদের স্বার্থ ও মুক্ত জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা না থাকে, তবে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়বে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরান যেন তাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে।
লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার দাবি
লেবাননে ইসরায়েলি গণহত্যায় উদাসীন অস্ট্রেলিয়া
