বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের অবরোধের পরিধি বাড়ছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন বিশ্বের কোথাও কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের মধ্যেই রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। পাকিস্তানের তিনটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনকে পাশে নিয়ে হেগসেথ আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘উদ্বিগ্ন নয়’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুর টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সামনে এখনো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ার ও আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ রয়েছে। তাদের শুধু অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে।’
এদিকে জেনারেল ড্যান কেইন জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সব বন্দরে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরেও ইরানি জাহাজগুলো বাধা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
কেইন বলেন, ‘ইরানের কোনো বন্দর বা ভূখণ্ডে যাতায়াতকারী যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে আমরা এই অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করছি। যেসব জাহাজ ইরানের দিকে যাচ্ছে বা ইরান থেকে বের হচ্ছে, সেগুলোর ওপর আমরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছি এবং প্রয়োজনে গতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত আছি।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ শুরু হয়। হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর চেষ্টা করে, তবে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
হেগসেথ অভিযোগ করেন, ইরানের অস্ত্রধারী ছোট ও দ্রুতগামী নৌযানগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স
ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করলো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি হলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে ইউরোপ