ফরাসি-জার্মান প্রকল্প ভেস্তে, সাবের দিকে এয়ারবাস ঝুঁকছে

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

ফরাসি-জার্মান যৌথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (FCAS) ভেঙে যাওয়ায় ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ভবিষ্যতের অংশীদার হিসেবে ক্রমশ সুইডেনের সাব-এর দিকে ঝুঁকছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নির্মাতা সাব-এর সাথে এয়ারবাস অন্তত ছয় মাস ধরে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা চালাচ্ছে।

জার্মানি ও সুইডেনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর ফলেই এয়ারবাস ও সাব-এর মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ছে। সাব-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো সহযোগিতা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে তারা প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। এয়ারবাস এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেসের সিইও মাইকেল শোয়েলহর্ন নিশ্চিত করেছেন যে সাব সম্ভাব্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বিকল্পও খোলা রয়েছে এবং এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে।

ফ্রান্সের ডাসল্ট এভিয়েশনের সাথে এয়ারবাসের বিচ্ছেদ বার্লিন এয়ারশোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিচ্ছেদ এয়ারবাসকে নর্ডিক অংশীদারিত্বের দিকে আরও খোলামেলা ভাবে এগোনোর সুযোগ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন, ইতালি ও জাপানের যৌথ গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম (GCAP)-এও এয়ারবাস ও জার্মানির যোগদানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতালির লিওনার্দো কোম্পানির সিইও লরেঞ্জো মারিয়ানি বলেছেন, বার্লিন এই প্রকল্পে "বিশেষভাবে উপযুক্ত অংশীদার" হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নয় বছর ধরে চলা FCAS-এর পতন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড় আঘাত হেনেছে। আগামী কয়েক দশক ধরে ইউরোপীয় বিমান শক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এখনকার সিদ্ধান্তগুলো। IISS-এর সিনিয়র ফেলো ডগলাস ব্যারি মন্তব্য করেছেন, "এটি প্রমাণ করে যে সামরিক, রাজনৈতিক ও শিল্প অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা কতটা কঠিন।"

সুইডেন অতীতে স্বাধীনভাবে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। বর্তমানে তারা গ্রিপেন-এর উত্তরসূরি নিয়ে গবেষণা করছে এবং ২০৩০ সালে এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্রিটেনের সাথে অংশীদারিত্ব করলেও এখন তারা নতুন পথ খুঁজছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এয়ারবাসের সাথে জোট বাঁধার জন্য সুইডেনের সদিচ্ছা ও প্রযুক্তি দুটোই রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে জার্মানি সফরে সুইডেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পাল জনসন বলেছিলেন, শিল্প সহযোগিতা "বিকশিত হচ্ছে"। ডিসেম্বরে সাব ও এয়ারবাস চালকবিহীন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এগুলো বিদ্যমান ইউরোফাইটার ও গ্রিপেন ই-এর মতো যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করার জন্য হলেও ভবিষ্যতে গভীর সহযোগিতার ভিত্তি হতে পারে।

তবে জার্মানি ও সুইডেনের চাহিদা কতটা এক, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে যেমন অতীতে মতপার্থক্য ছিল, তেমনি নতুন অংশীদারিত্বেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। GCAP প্রকল্পে জাপানের সাথে ২০৩৫ সালের কঠোর সময়সীমা জার্মানিকে গৌণ ভূমিকার বাইরে যেতে বাধা দিতে পারে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের ডাসল্ট এভিয়েশন আবারও এককভাবে যুদ্ধবিমান তৈরি করতে প্রস্তুত, যদিও সরকারি অর্থায়ন চাপের মধ্যে রয়েছে।

এয়ারবাসের নেতৃত্বাধীন জোট জার্মান সংস্থাগুলোর জন্য তদবির করবে, তবে এটিকে নতুন প্রকল্পের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। শোয়েলহর্ন বলেছেন, ‘জার্মানি বহুবার, এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও, স্পষ্ট করেছে যে আমরা ইউরোপীয় চিন্তাভাবনা চালিয়ে যাব।’ বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমিত অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও আর্থিক চাপের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো এককভাবে নয়, বরং যৌথভাবে যুদ্ধবিমান তৈরি করবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারিত্বও যুক্ত হতে পারে।

ডগলাস ব্যারি বলেন, ‘এটি পণ্যটিকে সস্তা করে না, তবে সাশ্রয়ী করে তোলে। আমেরিকান বা চীনা অংশীদার ছাড়া একা এই ধরনের প্রকল্প চালানো সত্যিই কঠিন।’

AHA
আরও পড়ুন