২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: নতুন ফুটবল প্রেমীদের জন্য গাইড

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যে উন্মাদনা ও উত্তেজনা, তা উপেক্ষা করা কঠিন। ফুটবল বা সকার বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং বিশ্বকাপ হলো এর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। টুর্নামেন্টটির প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার তিনটি দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এর আয়োজন করতে যাচ্ছে। 

আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে এই মহাযজ্ঞ শুরু হবে এবং ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামবে। যারা এই সুন্দর খেলাটির সাথে নতুন পরিচিত হচ্ছেন, তাদের জন্য এই টুর্নামেন্টের বিন্যাস ও খুঁটিনাটি বোঝা জরুরি।

বিশ্বকাপ প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টটি এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আসর, যেখানে ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে দলগুলোকে চারটি করে দেশের ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি পরবর্তী পর্ব বা ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এ উত্তীর্ণ হবে। পয়েন্ট তালিকার হিসাব খুব সহজ; একটি ম্যাচ জিতলে দল তিন পয়েন্ট পায়, ড্র করলে উভয় দল এক পয়েন্ট করে পায় এবং হারলে কোনো পয়েন্ট জোটে না। রাউন্ড অফ ৩২-এর বাকি দলগুলো নির্ধারিত হয় গ্রুপ পর্বে তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর মধ্যে যারা সামগ্রিকভাবে সেরা ফলাফল করে তাদের নিয়ে। এই বিশেষ পদ্ধতিটি টুর্নামেন্টের উত্তেজনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় রাখে।

মাঠের লড়াইয়ের নিয়মগুলো বেশ চমৎকার। প্রতিটি ম্যাচ ৯০ মিনিটের হয়, যা দুটি ৪৫ মিনিটের অর্ধে বিভক্ত এবং মাঝে ১৫ মিনিটের বিরতি থাকে। ফুটবল ঘড়ি কখনোই থামে না; তবে খেলোয়াড়দের চোট, বিলম্ব বা অতিরিক্ত গরমের কারণে নষ্ট হওয়া সময় পুষিয়ে নিতে প্রতিটি অর্ধের শেষে ‘অতিরিক্ত সময়’ যোগ করা হয়। গ্রুপ পর্বে কোনো পেনাল্টি শুটআউট নেই, তবে নকআউট পর্বে ম্যাচ টাই হলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা হয় এবং এরপরও ফলাফল না এলে পেনাল্টি কিকের মাধ্যমে জয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবারের আয়োজক শহরগুলোর তালিকায় মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা, মন্টেরে ও মেক্সিকো সিটি; কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস, মিয়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ মোট ১৬টি শহর রয়েছে।

শিরোপার দৌড়ে এবার ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে ফ্রান্স এবং স্পেনকে। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের মতো তারকা সমৃদ্ধ ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে, ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের ওপর ভরসা করে স্পেন তাদের দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে নামবে। এছাড়া টানা দুটি ইউরো ফাইনাল হারা ইংল্যান্ড এবং রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও অন্যতম দাবিদার। 

ব্রাজিল ২০০২ সালের পর তাদের ষষ্ঠ শিরোপার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় আছে। ব্যক্তিগত লড়াইয়ের দিকে তাকালে এমবাপে ও ইয়ামালের পাশাপাশি সবার নজর থাকবে দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। এছাড়া নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম এবং আর্লিং হালান্ডের মতো তারকাদের পায়ের জাদু দেখার জন্য মুখিয়ে আছে বিশ্ব।

এবারের বর্ধিত বিন্যাস বেশ কিছু নতুন দেশকে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে দিয়েছে। কুরাকাও মাত্র ১.৫৬ লক্ষ জনসংখ্যা নিয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে অভিষেক ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ছে। ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডানও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নাম লেখাচ্ছে। উজবেকিস্তান তাদের প্রথম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পেয়েছে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারোকে। মাঠের খেলার বাইরেও কিছু ম্যাচ ঘিরে রয়েছে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উত্তাপ। ১৬ জুন ফ্রান্স ও সেনেগালের ম্যাচে ফিরে আসবে ঔপনিবেশিক ইতিহাস। একইভাবে ২৩ জুন ঘানা ও ইংল্যান্ডের লড়াইয়েও থাকবে পুরনো সম্পর্কের রেশ। ইরান ও মিশরের ম্যাচটি সিয়াটলে ‘প্রাইড’ ম্যাচ হিসেবে উদযাপিত হওয়ার কথা থাকায় তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানি দল তাদের ম্যাচগুলো খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে। অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য এক বিশেষ প্রাপ্তি হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে আবেগ, ইতিহাস এবং আধুনিক ফুটবলের এক অনন্য সংমিশ্রণ।                                        

সূত্র: বিবিসি

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত