ইরান কে চালাচ্ছেন আমরা জানি না: ট্রাম্প

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

ইরানের শাসনক্ষমতার শীর্ষে বর্তমানে আসলে কে রয়েছেন, তা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউস নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্প্রতি ওভাল অফিসে সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর তেহরানের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যুদ্ধের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতা কে, তা আমাদের জানা নেই। কারণ আপনাদের মনে রাখা উচিত, সেখানে শাসনকাঠামো বা রেজিমের পরিবর্তন ঘটছে।

প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। শান্তি আলোচনার এই অনিশ্চয়তার মাঝেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তেহরানের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

যুদ্ধ শুরুর আগে ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মার্কিন সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিকের হামলায় তিনি নিহত হন। এরপর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। তবে তিনিও ওই হামলায় আহত হন বলে দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে যে তিনি হয়তো ‘অক্ষম’ হয়ে পড়েছেন বা মৃত্যুবরণ করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিলেও তাদেরকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে মনে করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তৎকালীন কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হন। পরে তাকে প্রতিস্থাপন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদিকে তুলনামূলকভাবে আরও কট্টরপন্থি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার ক্ষমতায় আসা ইরানের অভ্যন্তরে সেই ঘরানার শক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত করবে। তবে কতদিন পর্যন্ত তা চলবে সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি ইরান সরকারের গভীরভাবে বিভক্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত। সূত্র: ওয়াশিংটন এক্সামিনার

YA
আরও পড়ুন