নাগালের বাইরে ইরানি লাঞ্চার! হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র চায় মার্কিন বাহিনী

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও পর্দার আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি থামিয়ে রাখেনি ওয়াশিংটন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে এবার শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন (হাইপারসনিক) ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের জন্য পেন্টাগনের কাছে বিশেষ আবেদন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চারগুলো আগের অবস্থান থেকে সরিয়ে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীর বর্তমান ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তার ঠিক বাইরে লাঞ্চারগুলোকে রাখা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান মার্কিন সমরাস্ত্র দিয়ে ইরানের এই লাঞ্চারগুলো ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে ঠিকই, কিন্তু যদি কোনো কারণে এই সমঝোতা ভেঙে যায়, তবে সেন্টকোম প্রথম আক্রমণেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চায়। সে কারণেই তারা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের আবেদন করেছে, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।’

তবে কেন্দ্রীয় কমান্ড আবেদন করলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে অন্তত ৫ গুণ বেশি দ্রুতগতিতে চলতে পারে এবং এটি মাঝ-আকাশে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়ায় একে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে সেন্টকোমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র: ব্লুমবার্গ, জিও টিভি

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত