দীর্ঘ ৩০০ দিনের বেশি টানা মোতায়েন শেষে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ঘরে ফিরছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অঞ্চল ত্যাগ করে মে মাসের মাঝামাঝি ভার্জিনিয়ায় নিজ ঘাঁটিতে পৌঁছাবে।
এই নজিরবিহীন দীর্ঘ মিশনে রণতরীটি ইরানকে ঘিরে সংঘাতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো-কে গ্রেফতারের সামরিক অভিযানের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। প্রায় দশ মাসব্যাপী এই মোতায়েন ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে দীর্ঘ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
শুরুতে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রা করলেও পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী জাহাজটিকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়, পরে আবার ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। এমনকি সুয়েজ খাল পেরিয়ে লোহিত সাগরেও প্রবেশ করে এটি। তবে মাঝপথে জাহাজের ভেতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় কিছু সময়ের জন্য আবার ভূমধ্যসাগরে ফিরে মেরামত কাজ চালাতে হয়, যা পুরো মিশনকে আরও কঠিন করে তোলে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন- সহ তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন ছিল—যা ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এমন বড় সামরিক উপস্থিতি। এই উপস্থিতি ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়েছে।
তবে এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। নাবিকদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, বাস্তব সময়ের অপারেশনাল প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জব্দ ইরানি জাহাজের ৬ ক্রুকে ছেড়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র