ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র জার্মানির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এর জের ধরে জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। তবে এই ঘটনাতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। তিনি জানান, ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সরে যাওয়া আগেই বোঝা যাচ্ছিল।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সরাসরি মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় ইরান কার্যত যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে। বার্লিনের এমন কড়া অবস্থান এবং যুদ্ধ নিয়ে ভিন্নমত ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে, যার প্রতিফলন ঘটছে এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিস্টোরিয়াস এক বিবৃতিতে জানান, 'যুক্তরাষ্ট্র যে ইউরোপ এবং জার্মানি থেকে সৈন্য কমিয়ে আনবে, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।' তবে এই পরিস্থিতিকে তিনি জার্মানির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এখন সময় এসেছে ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেওয়ার।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জার্মানি ইতিমধ্যে সঠিক পথে এগোচ্ছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী 'বুন্দেসভেয়ার'-এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলছে। কেবল নিজেদের শক্তি বৃদ্ধিই নয়, বরং ব্রিটেন, ফ্রান্স, পোল্যান্ড এবং ইতালির মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সাথে সমন্বয় করে ইউরোপের একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সূত্র: আলজাজিরা
ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমতি লাগবে না: ট্রাম্প
ট্রাম্পের উপদেশের প্রয়োজন নেই: জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর