ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নেই,এমন অবস্থান নিয়ে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করছেন, অতীতের অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টই যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বিধান উপেক্ষা করেছেন, ফলে এই আইন বাস্তবে কখনোই কঠোরভাবে অনুসৃত হয়নি।
শুক্রবার (১ মে) ৬০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, তার পূর্বসূরিরা কংগ্রেসের এই ক্ষমতাকে 'সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক' হিসেবে দেখতেন। তার ভাষায়, 'অনেক প্রেসিডেন্টই এটি অতিক্রম করেছেন… কেউই আগে অনুমোদন চাননি, এটি কখনো বাস্তবে মানা হয়নি।'
তবে বাস্তবতা এতটা সরল নয়। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসকে অবহিত করার ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে বিদেশে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে আনতে হবে, যদি না আইনপ্রণেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেন। এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন-এর ক্ষমতা সীমিত করতে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসকে অবহিত করার পর শুক্রবার (১ মে) সেই ৬০ দিনের সময়সীমা পূর্ণ হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির কারণে এই সময়সীমার গণনা স্থগিত ছিল, যা নিয়ে নতুন করে আইনগত ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইতিহাস বলছে, কিছু প্রেসিডেন্ট এই আইনের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। ১৯৮৩ সালে রোনাল্ড রিগ্যান লেবাননে মার্কিন মেরিন মোতায়েনের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেন। ১৯৯১ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ উপসাগরীয় যুদ্ধে যাওয়ার আগে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নেন। একইভাবে জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমোদন আদায় করেন।
অন্যদিকে, এমন উদাহরণও রয়েছে যেখানে প্রেসিডেন্টরা এই আইনের সীমা অতিক্রম করেছেন। বিল ক্লিনটন ১৯৯৯ সালে কসোভোতে ৭৮ দিনের বিমান হামলা চালান কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই। বারাক ওবামা ২০১১ সালে লিবিয়ায় সামরিক অভিযানকে 'শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড' হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ৬০ দিনের সীমা অতিক্রম করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতীতের নজির থাকলেও সেটি বর্তমান সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেয় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড শুল্টজ বলেন, 'অন্য প্রেসিডেন্টরা আইন প্রয়োগ না করলেও, সেটি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সঠিক প্রমাণ করে না।' তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নির্বাহী বিভাগের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ ছিল, এবং কংগ্রেসের অনুমোদন সেই ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করছেন, ইরান সংঘাত তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি, যেখানে ভিয়েতনাম, ইরাক বা অন্যান্য যুদ্ধ অনেক দীর্ঘস্থায়ী ছিল। তবে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় এই সংঘাতের পরিণতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি
'আমরা যেন জলদস্যুর মতো, জাহাজে উঠি সব নিয়ে নেই'
ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমতি লাগবে না: ট্রাম্প
ইসরায়েলি নৃশংসতায় অর্থায়নের দায়ে কড়া সমালোচনায় ট্রাম্প