ইরান যুদ্ধ

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত স্পেশাল অপারেশন বিশেষজ্ঞ জোনাথন হ্যাকেট জানিয়েছেন, গত ৬০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন সরাসরি শাসনক্ষমতা পরিবর্তন বা পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের চেয়ে হরমুজ প্রণালীর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যাকেট বলেন, এই সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো এবং তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করা। কিন্তু গত দুই মাসে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে একটি অর্থনৈতিক সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। এটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্মানজনকভাবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি সহজ পথ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও হ্যাকেট এর কূটনৈতিক জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আটকে পড়া জাহাজের নাবিকরা এমন কোনো দেশের নাগরিক হন যাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো নয়, তবে ওয়াশিংটন তাদের কতটা সহায়তা দেবে? এক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

হ্যাকেট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই উদ্ধার অভিযানে ইরান বাধা প্রদান করে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, যদি সরাসরি কোনো সংঘাত শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। কারণ তখন তাদের কাজ শুধু জাহাজ পাহারা দেওয়া নয়, বরং সেগুলোকে রক্ষা করা হবে। এতে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন