যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে ইরান। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সীমা (Deadline) দেওয়া হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে আজই পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে নিজেদের জবাব পাঠাবে তেহরান।
ইরানের সংসদ সদস্য এবং সাবেক এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ নিশ্চিত করেছেন যে, আমেরিকানদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠানো হচ্ছে। তবে ইরান এই আলোচনার ক্ষেত্রে একটি দ্বি-স্তরীয় (Two-phase) কৌশল গ্রহণ করেছে।
১. প্রথম ধাপ (যুদ্ধ বন্ধ ও নিরাপত্তা): ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করবে না। বর্তমান আলোচনার একমাত্র লক্ষ্য হলো সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা। এজন্য ইরান সরাসরি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) কাছ থেকে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা চায়। এরপর তারা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
২. দ্বিতীয় ধাপ (পারমাণবিক আলোচনা): প্রথম ধাপের শর্তগুলো পূরণ হলে এবং স্থিতিশীলতা ফিরে এলে, দ্বিতীয় পর্যায়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করেছে তেহরান। ইরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (Persian Gulf Strait Authority) নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রণালীর নৌ-ব্যবস্থাপনা বা মেরিটাইম রেজিম সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন থেকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই বার্তা আদান-প্রদান বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন কঠোর নিয়ম এবং নিরাপত্তা পরিষদের গ্যারান্টির দাবি আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ইরান: পেজেশকিয়ান