ওয়াশিংটন/দোহা: ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কোন কোন বিষয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যে ১৪ দফার (14-point proposal) একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তার ভেতরে সুনির্দিষ্টভাবে কী আছে তা আমরা এখনো জানি না। এই প্রস্তাবটি বর্তমানে তেহরানের পর্যালোচনায় রয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, আলোচনা হতে হবে ‘সরল বিশ্বাসে’ (Good faith) এবং এটি কোনোভাবেই অন্য পক্ষকে বাধ্য করার চেষ্টা হতে পারবে না। এলমাসরির মতে, ইরানের এই বক্তব্যটি একটি নেতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে। এর অর্থ হতে পারে যে, মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের প্রধান দাবিগুলো এমনভাবে রাখা হয়নি যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানকে একপ্রকার ‘আত্মসমর্পণ’ (Capitulation) করাতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমার মনে হয় না তিনি তা করতে পারবেন। যদি এটিই যুক্তরাষ্ট্রের মূল অবস্থান হয়, তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ১৪ দফার প্রস্তাবে যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রতিফলন না ঘটে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রস্তাবের জবাব আজই দিতে পারে ইরান