সম্পর্কের তিক্ততা কমাতে পোপের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও চতুর্দশ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ভ্যাটিকানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষই ভ্যাটিকান সিটি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করার বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

পোপকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বারবার সমালোচনার কারণে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতভিন্নতায় তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি এল।

পোপের সঙ্গে ট্রাম্পের সর্ম্পক মেরামতের চেষ্টা নিয়েই চলতি সপ্তাহে রোমের ভ্যাটিকান সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে পোপের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

প্রায় এক বছরের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে পোপের এটিই প্রথম বৈঠক। আর এরপরই এল দুইজনের এই যৌথ প্রতিশ্রুতির ঘোষণা।

ভ্যাটিকান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পোপ ও রুবিও উভয়েই “দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।”

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রথম পোপ নির্বাচিত হওয়া লিও শুরু থেকেই ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। তাছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন বিরোধী নীতির বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন।

এর জেরে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প নজিরবিহীনভাবে পোপের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের খ্রিস্টান নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট পোপ ও রুবিওর বৃহস্পতিবারের বৈঠককে ভ্যাটিকান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘শক্তিশালী’ সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভ্যাটিকানে হলি সি’র মার্কিন দূতাবাস এক্সে বলেছে, পোপ লিও ও রুবিও পশ্চিম গোলার্ধে পারষ্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুইজন বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেছেন এবং শান্তির পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন।

রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে । রুবিওকে ‘মিস্টার সেক্রেটারি’ বলে সম্বোধন করেন পোপ এবং জবাবে রুবিও পোপকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বৈঠক শেষে রুবিওকে জলপাই কাঠের তৈরি একটি কলম উপহার দিয়ে একে ‘শান্তির গাছ’ বলে অভিহিত করেন পোপ।

অন্যদিকে, রুবিও পোপকে একটি ক্রিস্টাল ফুটবল উপহার দেন এবং রসিকতা করে বলেন, শিকাগোর বাসিন্দা পোপ ‘বেসবল’ বেশি পছন্দ করলেও এটি তার জন্য শুভেচ্ছা স্মারক।

এর আগে ট্রাম্প মিথ্যা দাবি করে বলেছিলেন যে, পোপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে পোপ এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি কেবল খ্রিস্টীয় শান্তির বার্তা প্রচার করছেন এবং গির্জার শিক্ষা অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রকে তিনি অনৈতিক মনে করেন।

YA
আরও পড়ুন