ফুটবল মাঠে গোলের পর গোল করে আলোচনায় থাকা আর্লিং হালান্ড এবার অপ্রত্যাশিতভাবে হাজির হলেন কোকেনের প্যাকেটে। ইকুয়েডরে একটি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধারের সময় সবুজ রঙের প্যাকেটগুলোর গায়ে নরওয়ের এই তারকার ছবি দেখতে পান দেশটির মাদকবিরোধী পুলিশ।
বুধবার (১২ কলম্বিয়া সীমান্তের কাছে ট্রাকটিতে অভিযান চালিয়ে ৩৬৯ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ইকুয়েডরের পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকটির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোকেনের প্যাকেটে হালান্ডের ছবি কেন ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে বেনামি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পান-আমেরিকান মহাসড়কে অভিযান শুরু করেন মাদকবিরোধী কর্মকর্তারা। সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর এর গোপন তলায় কোকেনের ৩৭০টি প্যাকেট পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে ট্রাকের গোপন তলা থেকে একের পর এক প্যাকেট বের করে আনতে দেখা যায়। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে স্পষ্টভাবে ছিল বিশ্বকাপ মাতানো হালান্ডের ছবি।
মাদক পাচারকারীদের এ ধরনের কৌশল অবশ্য নতুন নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন অপরাধী চক্র চালান শনাক্ত করা, কোন নেটওয়ার্কের পণ্য বা কোন ক্রেতার জন্য তা নির্ধারণ করার সংকেত হিসেবে পরিচিত ক্রীড়াবিদ ও তারকাদের নাম কিংবা ছবি ব্যবহার করে থাকে।
হালান্ডই অবশ্য মাদক পাচারকারীদের পছন্দের একমাত্র ফুটবলার নন। এর আগে উদ্ধার হওয়া আরেকটি মাদকের প্যাকেটেও আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ছবি দেখা গেছে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর হালান্ডের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। জুলাইয়ে চার ম্যাচে সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নানা মজার ভিডিও ও মিমও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ইকুয়েডর মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির অপরাধী চক্রগুলো কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর মাদক কার্টেলের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন রুটে মাদক পাচার পরিচালনা করে। এসব মাদকের বড় অংশ মধ্য আমেরিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যায়, পাশাপাশি ইউরোপেও পাচার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া চালানটির ইকুয়েডরের স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর মূল্য ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং ইউরোপে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার হতে পারে।
এ অভিযানে কলম্বিয়ার পরিচয়পত্রধারী মারিয়া আর নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাঁর পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানটি চালানো হয় সীমান্তবর্তী তুলকান শহরের কাছে গুয়াগুয়া নেগ্রো এলাকায়।
ইকুয়েডরের পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে প্রায় ৮০ টন মাদক জব্দ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে জব্দ করা হয়েছিল প্রায় ২১৫ টন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২৯৫ টন মাদক। সূত্র: সিএনএন
দস্তয়েভস্কির উদ্ধৃত করে মার্কিন নীতিকে ইরানের খোঁচা
চীনের চাপের মধ্যেই তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন
৫ জনকে গুলি করে হত্যা, বনে মিললো বন্দুকধারীর লাশ