দেশের সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় ধরণের সুখবর নিয়ে আসছে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের মাসিক পেনশন এক লাফে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী, টিফিন ও শিক্ষা ভাতাতেও বড় ধরণের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ ও অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কমিশন পেনশনভোগীদের তিন ভাগে ভাগ করে বৃদ্ধির হার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে:
১. ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি: যেসব পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২. ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি: ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
৩. ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি: যাদের পেনশন ৪০ হাজার টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে।
ভাতায় বড় পরিবর্তন
নতুন কাঠামোতে ভাতার হারও অনেকটা বাড়বে বলে জানা গেছে:
বৈশাখী ভাতা: বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবে এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
টিফিন ভাতা: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষা ভাতা: সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে।
অর্থ বিভাগের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো সুবিধা ও পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা হলেও তাল মেলাতে সক্ষম হবেন।