পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। গত কয়েক দিনের ভয়াবহ সংঘাতের পর বর্তমানে ওই অঞ্চলে এক ধরনের ‘থমথমে পরিস্থিতি’ বিরাজ করলেও ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নতুন করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং শত্রু দেশগুলোর জাহাজে সরাসরি পাল্টা হামলা চালানো হবে।
গত ৫ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক নৌ-মিশন স্থগিত করেন। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রাখা হয়। ৭ মে সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন ইরান দাবি করে যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কেশম (Qeshm) দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় এবং বন্দর খামির ও সিরিক উপকূলে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আক্রমণ করে। বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, তিনটি নৌ-ডেস্ট্রয়ারকে রক্ষা করতে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সাইটগুলো ধ্বংস করেছে।
গত ৮ মে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন মার্কিন বাহিনী অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী দুটি ইরানি পতাকাবাহী খালি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। এতে এক নাবিক নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। এর পরপরই ইরানি বাহিনী ওমান উপসাগর থেকে একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিমুখে ইরান থেকে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে দেশটি, যেখানে তিনজন আহত হন।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্কিন নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বর্তমান স্থিতাবস্থা যে কোনো সময় বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে রাখার প্রস্তাব পুতিনের