লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা, নিহত আরও ২০

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১০:০৪ এএম

যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও লেবাননে অবিরত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর নতুন অনবরত হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও ডজনখানেক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শনিবার টায়ার শহরের উত্তরে আল-বাকবুক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ২ জন আহত হন। উদ্ধারকারী দল চারজনের লাশ উদ্ধার করতে পারলেও অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার কারণে এক নারীর মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচেই আটকে থাকে। এছাড়া নাবাতিহ জেলার সায়র আল-গারবিয়া শহরের একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আল-রাফিদ এবং আল-শাহাবিয়া শহরেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বাড়িঘরের ওপর বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। টায়ার জেলার আল-হুশ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোনের আঘাতে ১ জন এবং দেইর কানুন এন-নাহর এলাকায় রাতের আঁধারে একটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস করে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। চরম অমানবিক বিষয় হলো, কাফর শহরে যখন ‘ইসলামিক হেলথ অথরিটি’র একটি সিভিল ডিফেন্স দল আগের হামলার শিকারদের উদ্ধারে কাজ করছিল, তখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও হামলা চালায়। এতে উদ্ধারকারী দলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।

টায়ার শহরের হীরাম হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায় রাতের বেলা ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতালটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতালটির প্রধান নির্বাহী সালমান আইদিবি জানান, হামলার আগে এলাকা খালি করার সতর্কতা জারির সময় সেখানে আইসিইউতে থাকা ৭ জনসহ প্রায় ৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় তারা অক্ষত আছেন। গত ২ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালটির কাছে এটি তৃতীয় হামলা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় হাসপাতালের অন্তত ২৫ জন চিকিৎসা, নার্সিং ও প্রশাসনিক কর্মী আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সম্মুখ সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও তিবনিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও আইসিইউ ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লেবাননের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ শহরের একটি সেনা ব্যারাকে ইসরায়েলি বাহিনী শত্রুভাবাপন্ন হামলা চালিয়েছে। এতে একজন লেবাননি সেনা সদস্য মাঝারি ধরনের জখম বা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে লেবানন সীমান্তের কাছে তাদের নোয়াম হামবার্গার (২৩) নামের এক স্টাফ সার্জেন্ট নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২২ জন ইসরায়েলি সেনা এবং ১ জন বেসামরিক ঠিকাদারসহ মোট ২৩ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রাহাল, টায়ার এবং জকুক আল-মুফদিসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উচ্ছেদ আদেশের তালিকায় নাবাতিহ আল-তাহতা, কাফর তিবনিতসহ আরও অন্তত ১০টি শহর রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ওবায়দা হিতো জানান, ইসরায়েলের নির্ধারণ করে দেওয়া ৫০০ মিটারের ডেঞ্জার জোনের (বিপদসীমা) প্রান্তে অসংখ্য পরিবার ও শিশুদের নিয়ে মানুষ আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন। তারা জানেন না কবে ফিরতে পারবেন। এটিকে ইসরায়েলের এক ধরণের "মনস্তাত্ত্বিক সন্ত্রাস" হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই দিনে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিরানিট ব্যারাকের একটি সামরিক ক্যাম্পে দুটি আয়রন ডোম লঞ্চারে সফল হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রধান নাঈম কাসেম ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছেন। বার্তায় তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা হিজবুল্লাহসহ ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার দাবি তোলা আন্দোলনগুলোর প্রতি সমর্থন দেওয়া বন্ধ করবে না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুদ্ধ বন্ধের যে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে একটি স্থায়ী ও স্থিতিশীল যুদ্ধ সমাপ্তির পাশাপাশি লেবাননকেও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা জোরদার হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৩,১০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১২৩ জন চিকিৎসা কর্মী, অন্তত ২১০ জন শিশু এবং প্রায় ৩০০ জন নারী রয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত