‘শান্তির দাবিদার ট্রাম্প এখন যুদ্ধের রাষ্ট্রপতি’

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক—উভয় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-এর সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।

নেগার মোর্তাজাভি বলেন, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ভেতরেই স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একদিকে মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করে বলছেন—এই যুদ্ধের ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং আমেরিকা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই থাকা যুদ্ধবিরোধী বা সংযতপন্থী 'আমেরিকা ফার্স্ট' অংশটিও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।

মোর্তাজাভি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা করার ওপর ভিত্তি করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক ব্র্যান্ড বা ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ তাঁর নিজের নীতির সাথেই একটি চরম পরিহাস।

তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, "যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার 'অন্তহীন যুদ্ধ' বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এই বর্তমান প্রেসিডেন্টও দুইবার একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি এই যুদ্ধগুলোকে 'অর্থহীন ও বোকামি' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। নিজেকে 'শান্তির রাষ্ট্রপতি' হিসেবে দাবি করার পরও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন।"

গবেষক মোর্তাজাভির তথ্যমতে, ইরানের ওপর হামলার এই পরিকল্পনাটি মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তৈরি করেছিলেন। ট্রাম্পের পূর্বসূরি প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই টেবিলে এই পরিকল্পনাটি রাখা হয়েছিল, কিন্তু তারা সবাই এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি, কারণ সবাই খুব ভালো করেই জানতেন—ইরান কোনো 'কাগজের বাঘ' নয় এবং এটি কোনো সহজ লড়াই হবে না। এখানে আঘাত করলে পাল্টা মারাত্মক আঘাত সইতে হবে।"

নেগার মোর্তাজাভি পরিশেষে বলেন, "সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো—যিনি নিজেকে 'শান্তির রাষ্ট্রপতি' বলতেন, তিনি এখন 'যুদ্ধের রাষ্ট্রপতি'তে পরিণত হয়েছেন। কোনো অর্জন ছাড়াই তিনি নিজে একটার পর একটা আত্মঘাতী ভুল করে এই চোরাবালিতে আটকে গেছেন। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সংকট, আর এর ফলে এখন নিজের দল এবং বিরোধী দল—উভয় পক্ষ থেকেই তাঁর দিকে ধেয়ে আসছে তীব্র সমালোচনা।" সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন