আদালতে কঠোর নিরাপত্তা

শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ এএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলায় আজ রবিবার (৭ জুন) রায় ঘোষণা করা হবে। 

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় দেবেন। আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামি মো. সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ।

চাঞ্চল্যকর এই রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার লক্ষ্যে দুই আসামিকে পুলিশি পাহারায় ইতিমধ্যে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত চত্বরে পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

মাত্র ১৯ দিনে নজিরবিহীন দ্রুত বিচার

ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন গতিতে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৯ মে দিবাগত রাতে মামলা দায়েরের পর মাত্র ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।

ঈদুল আজহার ছুটি থাকা সত্ত্বেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারকের ছুটি বাতিল করে বিশেষ শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

এরপর ২ জুন বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা এক দিনেই শেষ করেন আদালত। গত ৩ জুন প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। 

৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায়ের দিন ধার্য করেন।

আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার নজির মেলা ভার। এই রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন:

‘আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেও অপরাধ স্বীকার করেছেন। আমরা দুই আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছি।’

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ প্রধান আসামি সোহেল রানার অপরাধ স্বীকারের প্রেক্ষিতে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ৭ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছেন।

রায় কার্যকর হতে কতদিন লাগতে পারে?

বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণার পর তা কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, এটি উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। 

তিনি বলেন, নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর উচ্চ আদালতে আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির বিভিন্ন ধাপ থাকে।

আসামির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ারও সুযোগ থাকে।

তবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি চাইলে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে এই রায় দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিতে পারেন, যা একান্তই তাঁর এখতিয়ার।

কী ঘটেছিল পল্লবীতে?

মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায়।

রামিসা ঘরে না ফেরায় তার বাবা-মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির দরজার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাতাকে আটক করার পর জানা যায়, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

HN
আরও পড়ুন