৫৮ দিনের অপেক্ষা শেষ, সাগরে যাচ্ছে হাতিয়ার জেলেরা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ এএম

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সব ধরণের সামুদ্রিক মাছ শিকারে সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। 

দীর্ঘ ৫৮ দিনের অপেক্ষার শেষে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে মধ্যরাত থেকেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে ছুটছেন।

ফের সাগরে যাওয়াকে ঘিরে জেলেপল্লীগুলোতে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। 

উপজেলার বিভিন্ন ঘাট, ডকইয়ার্ড ও মাছ অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। কেউ ট্রলার মেরামতের শেষ কাজ করছেন, কেউ জাল গুছিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ বরফ, জ্বালানি তেল, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ট্রলারে তুলছেন।

সরাসরি মৎস্য শিকারের সাথে জড়িত দ্বীপ হাতিয়ায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা। গভীর সমুদ্র ও মেঘনা মোহনায় মাছ আহরণই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। 

সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন, সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার।

নিষেধাজ্ঞাকালে কর্মহীন হয়ে পড়েন হাজারো জেলে। অনেকেই পরিবার চালিয়েছেন ধার-দেনা করে। ফলে মধ্যরাত থেকে আবারও সাগরে নামার সুযোগ পাওয়ায় নতুন আশার আলো দেখছেন তারা।

জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেশের স্বার্থে মেনে নিলেও দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পরিবারকে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ।

তাদের দাবি, হাতিয়ার কার্ডধারী ৪ হাজার ৮৭৩ জন জেলেকে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণে অনিয়ম হয়েছে। প্রকৃত কার্ডধারী অনেক জেলে সরকারি সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। তবুও সরকারি নির্দেশনা মেনে জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যায়নি।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার আশা করছেন জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা, জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে। ভালো মাছ পাওয়া গেলে চলতি মৌসুমে আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। একই সাথে ধার-দেনা পরিশোধ করে পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

স্থানীয় জেলে মো: নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাসের বেশি সময় কোনো আয় ছিল না। অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছি। এখন আশা করছি সাগরে ভালো মাছ পাবো। তাতেই যদি ঋণ শোধ করতে পারি।’

জেলে আবুল কালাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেছি। এখন আল্লাহর রহমতে যদি মাছ পাওয়া যায় তাহলে পরিবার নিয়ে আবার স্বচ্ছল জীবনে ফিরতে পারবো।’

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও চালানো হয়েছে।

হাতিয়ার নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছি। জেলেদের সচেতন করা হয়েছে এবং অধিকাংশ জেলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেছেন। আশা করছি এর সুফল সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবে।’

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান বলেন, ‘সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের প্রায় ২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।’

HN
আরও পড়ুন