রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা ইউক্রেনের

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে সবচেয়ে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। প্রায় ২০০টি ড্রোন নিয়ে চালানো এই রেকর্ড হামলার পর মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। একই সাথে হামলার পর আকাশ থেকে এক ধরনের কালচে তেলের গুঁড়ি বা ‘তেল বৃষ্টি’ ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ড্রোন এবং ৪টি ইউক্রেনীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এই হামলায় মস্কো অঞ্চলে ১৭ জন আহত হয়েছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে কিয়েভের ঐতিহাসিক 'পেচেরস্ক লাভরা' মঠে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ হামলার জবাব হিসেবেই মস্কোয় এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। জেলেনস্কি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ চাইনি। কিন্তু ইউক্রেন যদি পুড়ে, তবে তোমাদের মস্কোও পুড়বে।”

এর জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এখন আর শুধু কথায় কাজ হবে না। ইউক্রেনের ওপর এখন থেকে “ব্যাপক স্কেলে” পাল্টা হামলা চালানো হবে।

মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারটি এক মাসের মধ্যে তৃতীয়বার এবং চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয়বারের মতো ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোনের আঘাতে একটি বিশাল তেলের সাইলোর ওপরের অংশ উড়ে গিয়ে কয়েক ডজন মিটার উঁচুতে আছড়ে পড়ে। এছাড়া ড্রোন ভেঙে পড়ে একটি শপিং মল ও বহুতল আবাসিক ভবনেও আগুন ধরে যায়।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, হামলার পর দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দারা জানান, আকাশ থেকে হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো এক ধরনের তৈলাক্ত তরল পড়েছে, যা তাদের জামাকাপড়ে ‘অস্বস্তিকর কালো দাগ’ তৈরি করেছে। পার্কিংয়ে থাকা গাড়িগুলোর নিচে শুকনো থাকলেও ওপরের অংশ কালো তেলের আস্তরণে ঢেকে গেছে।

মস্কো কর্তৃপক্ষ ‘তেল বৃষ্টির’ বিষয়টি অস্বীকার করলেও, শহরের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শিশু, বয়স্ক এবং হাঁপানি রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামলার কারণে মস্কোর ৪টি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ৫০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়।

কিয়েভ থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরের মস্কোতে এই বড় মাপের হামলা মূলত সাধারণ রাশিয়ানদের কাছে “যুদ্ধকে ফিরিয়ে আনার” বিষয়ে জেলেনস্কির রণকৌশলেরই অংশ। এ নিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আজ সকালে মস্কোবাসীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—কী ঘটছে? আমি উত্তর দিচ্ছি, আপনাদের দেশ আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। এখন যেহেতু জানলেন কী ঘটছে, পুতিনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন তিনি কবে এটা থামাবেন।”

এদিকে, এই হামলার জবাবে রাশিয়াও রাতভর ইউক্রেনে ২০০-র বেশি ড্রোন এবং একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় যখন এত বড় বিপর্যয় চলছে, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের নিয়ে কাজান শহরে একটি সম্মেলনে ব্যস্ত থাকা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন পর্যন্ত এই হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন