কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রাখলো ক্রোয়েশিয়া

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা নিয়েই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে পানামার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর আশা জিইয়ে রাখল ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে জ্লাতকো দালিচের দল। এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৩, আর বিদায়ের শঙ্কা আরও বেড়েছে পয়েন্টশূন্য পানামার।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক। হেরে গেলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা থাকায় প্রথমার্ধে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণ সামলাতেই বেশি মনোযোগ দেয় উভয় দল। তবে গোলের কাছাকাছি বেশি পৌঁছেছিল পানামাই। ২২ মিনিটে মার্টিনেজের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। এরপর মুরিলোর ক্রস থেকে রদ্রিগেজের হেডও বিপদমুক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে বলের দখল বেশি থাকলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। যোগ করা সময়ে মার্টিন বাতুরিনার দূরপাল্লার শট থেকে প্রথম অন-টার্গেট প্রচেষ্টা পায় দলটি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ। আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে মাঠে নামান আন্তে বুদিমির ও আন্দ্রেই ক্রামারিচকে। সেই সিদ্ধান্তের ফল আসে ৫৪ মিনিটেই। ইয়োসিপ স্তানিসিচের নিখুঁত ক্রস থেকে বুদিমির সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন।

গোলের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পানামা। কিন্তু লিভাকোভিচের দুর্দান্ত গোলকিপিং তাদের হতাশ করে। ৬৮ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে মধ্য আমেরিকার দলটি। মুরিলোর দুটি প্রচেষ্টা এবং কর্নার থেকে পাওয়া একটি হেড অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক।

শেষদিকে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি পানামা। যোগ করা সময়েও পাওয়া ফ্রি-কিকের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।

এদিকে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ঘানা গোলশূন্য ড্র করায় সমীকরণ আরও জমে উঠেছে। দুই ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড ও ঘানার পয়েন্ট ৪ করে, ক্রোয়েশিয়ার ৩ এবং পানামার শূন্য। ফলে শেষ ম্যাচের আগে নকআউটের ভাগ্য এখনও নিজেদের হাতেই রাখতে পেরেছে লুকা মদ্রিচের দল। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পাওয়ায় অভিজ্ঞ এই অধিনায়কের জন্যও দিনটি হয়ে থাকল বিশেষ স্মরণীয়।

AM/SN
আরও পড়ুন