পরমাণু বিজ্ঞানের গবেষণা ছেড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়া সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ২০১৪ ব্যাচের ভারতীয় ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তা নিধি তিওয়ারির গল্প, যিনি বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে বেড়ে ওঠা নিধি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক ও স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর শেষ করেন এবং অসামান্য ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ভারতের অন্যতম সম্মানিত পরমাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার'-এ বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে দেশের নীতি নির্ধারণ ও নীতি বাস্তবায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার তাগিদ তিনি অনুভব করছিলেন।
প্রশাসনিক সেবায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে ২০০৮ সালে তিনি পরমাণু বিজ্ঞানীর সম্মানিত চাকরি ত্যাগ করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। এরপর পুরো মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রম ঢেলে দেন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে।
এই কঠিন প্রতিযোগিতায় ২০১২ সালে তার নাম কেবল ওয়েটিং লিস্টে জায়গা পেয়েছিল। তবে তিনি ভেঙে পড়েননি; পুনরায় চেষ্টা চালিয়ে ২০১৩ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধা তালিকায় ৯৬তম স্থান অধিকার করে সবার নজর কাড়েন।
২০১৪ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার পর নিধি তিওয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। পররাষ্ট্রনীতির এই বিশেষ অভিজ্ঞতা তার কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আন্ডার সেক্রটারি হিসেবে যোগ দেন এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়ে পরবর্তীতে ডেপুটি সেক্রটারি পদে উন্নীত হন। সেখানে কাজ করার সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি কাজ করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় বিশেষ পারদর্শিতার কারণে ২০২৫ সালে নিধি তিওয়ারিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এনডিটিভি-সহ ভারতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তার এই অভাবনীয় অর্জনের গল্প উঠে এসেছে।
তথ্যসূত্র: NDTV
ভারতের দুই রাজ্যের সীমান্ত বিরোধে সংঘর্ষ
পশ্চিম তীরে প্রায় এক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ