বাস্তবায়নে লাগবে ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

রাজধানীর যানজট নিরসনে নতুন 'মাস্টারপ্ল্যান'

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট নিরসন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং টেকসই নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (DTCA) তাদের হালনাগাদ কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (URSTP) প্রকাশ করেছে। নতুন এই মহাপরিকল্পনা আগামী দুই দশকে (২০ বছর) বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

নতুন এই পরিবহন পরিকল্পনায় ঢাকার বিদ্যমান ৬টি মেট্রোরেল লাইনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন মেট্রোরেল লাইন যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন রুট দুটি হলো— এমআরটি লাইন-৩ এবং এমআরটি লাইন-৪।

মহাপরিকল্পনায় প্রথমবারের মতো ৫টি নতুন মনোরেল রুট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মনোরেলগুলো মূলত প্রধান মেট্রোরেল লাইনের ‘ফিডার সার্ভিস’ (সহায়ক সংযোগ) হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত মনোরেল রুটসমূহ এবং তাদের সংযোগ ব্যবস্থা নিচে দেওয়া হলো:

মনোরেল-১: বিমানবন্দর–পূর্বাচল–জলসিড়ি–বসুন্ধরা (সংযুক্ত হবে এমআরটি লাইন-১ এর সঙ্গে)।

মনোরেল-২: বিমানবন্দর–উত্তরা সেন্টার–সাভার (সংযুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫ উত্তর এর সঙ্গে)।

মনোরেল-৩: মোহাম্মদপুর–পোস্তগোলা (সংযুক্ত হবে এমআরটি লাইন-১ এর সঙ্গে)।

মনোরেল-৪: মধ্য বাড্ডা–ভুলতা (সংযুক্ত হবে এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৩ এবং এমআরটি লাইন-৪ এর সঙ্গে)।

মনোরেল-৫: রামপুরা–ডেমরা (সংযুক্ত হবে এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫ উত্তর এর সঙ্গে। (এই রুটে মনোরেল-১ এর সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ বা ট্রেন পরিবর্তনের বিশেষ সুবিধা থাকবে)।

মেট্রোরেল ও মনোরেলের এই বিশাল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করতে এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (BRT), বিশেষ বাস করিডোর, কমিউটার রেল, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো, ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (TOD) এবং মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণের জোর সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ডিটিসিএর জরিপ ও গবেষণায় ঢাকার যানজটের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, তীব্র যানজটের কারণে ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় ২.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এই বিপুল ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ মোকাবিলায় গণপরিবহনভিত্তিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন এই মহাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

এই বিশাল পরিবহন পরিকল্পনা সুচারুভাবে বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জন্য ডিটিসিএকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে, সংস্থাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করে “Dhaka Urban Transport Authority” নামে একটি নতুন ও স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

YA
আরও পড়ুন