গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে সহকর্মীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। নিহত শ্রমিকের নাম লিজা আক্তার (৩৫)। তিনি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। লিজা শ্রীপুর উপজেলার আনসার রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
সহকর্মীদের অভিযোগ, লিজা আক্তার বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং এ কারণে এর আগে ১৫ দিনের ছুটিও কাটিয়েছিলেন। ছুটি শেষে গত ২৪ জুন রাত ১০টায় তিনি নাইট শিফটের কাজে যোগ দেন। ডিউটি চলাকালীন তিনি পুনরায় গুরুতর অসুস্থ বোধ করলে কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন জানান। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তার আবেদন নাকচ করে তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে লিজা আক্তার কারখানার ভেতরেই হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ আল হেরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লিজার মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিকুল ইসলাম জানান, লিজা আক্তারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে লিজার মৃত্যুর খবর কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে টেপিরবাড়ি এলাকায় কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকেরা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে ওই রুটে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে পুলিশের মধ্যস্থতা ও আশ্বাসে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্য শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ছুটি না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মালিক আব্দুস সালামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
টাকার লোভে ফুফুকে হত্যা, ভাতিজাসহ গ্রেপ্তার ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবরও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আহত হিসাব রক্ষক
লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যা