লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশের একমাত্র কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (জিডিআর)–এর ওপর আরোপিত লেনদেন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে গতকাল শুক্রবার থেকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন পুনরায় শুরু হয়েছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) মধ্যস্থতায় এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ডিবিএর তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ২০০৪ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি সেখানে তালিকাভুক্ত একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং পরবর্তী আর্থিক প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে না পারায় ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি থেকে কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিত ছিল।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজ টানা ছয় মাস স্থগিত থাকলে এবং স্থগিতাদেশের কারণ দূর না হলে তালিকাভুক্তি বাতিল হতে পারে। সে হিসেবে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির ডি-লিস্টিং ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেন। একই সঙ্গে তারা এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এরপর ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠনটি বিএসইসি এবং বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেয়।
পরবর্তী সময়ে বিএসইসি বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদকে বিশেষ বোর্ড সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন ও প্রকাশ করা সম্ভব হয়। এতে কোম্পানির রিপোর্টিং-সংক্রান্ত ঘাটতি দূর হয় এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে লেনদেন পুনরায় চালুর অনুমোদন দেয়।
ডিবিএর মতে, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সময়োপযোগী সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় অর্থমন্ত্রী, বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে ডিবিএ।
বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
সোনার বাজারে অস্থিরতা, ফের বাড়লো দাম
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে কারা আগে পাচ্ছেন