বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খান

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট ব্যক্তিত্ব এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদ খান।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। উপসচিব ফারজানা জাহান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী আগামী চার বছরের জন্য মাসুদ খানকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ এই পদে যোগদানের জন্য একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্তানুযায়ী, বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে থাকা বর্তমান কর্ম-সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টতা পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগের আওতায় তাঁর বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মাসুদ খানের এই নিয়োগকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তিনি দেশের করপোরেট সেক্টরে অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত। ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বহুজাতিক ও দেশীয় একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং এবং করপোরেট গভর্নেন্সে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএসইসির মতো সংবেদনশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এক কঠিন সময় পার করছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট, বাজারে তারল্য স্বল্পতা, সুশাসনের অভাব এবং অনিয়মের নানা অভিযোগে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের অভিভাবক হিসেবে মাসুদ খানের মতো একজন পেশাদার ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়া সরকারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সেই সাথে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি নতুন কৌশল গ্রহণ করবেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদ খানের প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। এছাড়া, দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) বন্ধ করা, বাজারে ভালো ভালো করপোরেট ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহিত করা এবং সর্বোপরি ম্যানিপুলেশন বা কারসাজি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মাসুদ খান তাঁর দীর্ঘ করপোরেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে দেশের শেয়ারবাজারকে একটি স্থিতিশীল এবং বৈশ্বিক মানের সুশাসিত বাজারে পরিণত করতে সক্ষম হবেন। এখন দেখার বিষয়, করপোরেট জগতে সফল এই পেশাদার ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে দেশের পুঁজিবাজারের সংকটের মোড় কতটা সফলভাবে ঘোরাতে পারেন।

AT/SN
আরও পড়ুন