স্থানীয় নির্বাচনে সৎ নেতৃত্ব চাইলেন জামায়াতের আমির

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমাজের সৎ, গ্রহণযোগ্য ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পদ বা সাংগঠনিক অবস্থানের চেয়ে ব্যক্তির সততা, হালাল উপার্জন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে পারলে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ এমন একটি দলকে দায়িত্ব দিতে চেয়েছে, যারা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী ৯০টি আসনে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলটি সৎ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি আরও বলেন, দলের মূল লক্ষ্য কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। দেশ পরিচালনার যোগ্যতা যার রয়েছে, নেতৃত্বের অধিকারও তারই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সমাজের অন্যায় ও অবক্ষয় দূর করার আগে প্রত্যেককে নিজের চরিত্র ও আত্মশুদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে জামায়াতের অন্যতম শক্তি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা দলটির সাংগঠনিক ভিত্তিকে দৃঢ় করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও অর্জনও একটি ছোট ভুল বা অসতর্কতার কারণে ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সততা, আত্মসংযম ও আদর্শিক অবস্থানে অটল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণকারীরা কখনো পথভ্রষ্ট হন না। পরিবার, সমাজ ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে মায়েদের যথাযথ সম্মান, তাদের পারিবারিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং দ্বীনি কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। কর্মশালায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

Attr/AHA
আরও পড়ুন