তেলের উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

ইরান সংকটের পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওপেক প্লাস (OPEC+)। 

রোববার (৫ জুলাই) একটি ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জোটটি জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাস থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। মূলত জোটের প্রধান ৭টি দেশ— সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান এই বর্ধিত তেল বাজারে সরবরাহ করবে।

উৎপাদন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত গত ৫ মাসের মধ্যে টানা পঞ্চম দফা বৃদ্ধি, যা ২০২৩ সালে নেওয়া তেল উৎপাদন হ্রাসের নীতি থেকে জোটের ক্রমান্বয়ে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় ও তেলের দরপতনের বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে তখন উৎপাদন কমিয়েছিল ওপেক প্লাস।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আগামী ২ আগস্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আবারও বৈঠকে বসবে।

গত এপ্রিল মাসে ইরান যুদ্ধের উত্তাপে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও, সম্প্রতি যুদ্ধ সমাপ্তির আশায় তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থানে নেমে এসেছে। সোমবার (৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে সেপ্টেম্বর ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক আগের দিন তেলের দাম ছিল ৭২.৪৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত ১৭ জুন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে যেখানে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা দৈনিক ১৩০টি থেকে কমে ৩০-৪০টিতে নেমে এসেছিল, সেখানে এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ২০ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যার ফলে ওপেক প্লাস বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ওপেক প্লাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল, তা মে মাসে কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি আসি লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে।

বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান ইপ জানান, নৌ অবরোধ উঠে যাওয়ার পর সৌদি আরব গত ১৭ জুনের পর থেকে তাদের আগের তিন মাসের তুলনায় দ্বিগুণ তেল পাঠিয়েছে এবং ইরানও প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছেড়েছে। এর সাথে ওপেক প্লাসের নতুন সরবরাহ যুক্ত হওয়া, চীনের বাজারে মন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে তেলের পর্যাপ্ত যোগান তৈরি হয়েছে; যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তেলের দাম হ্রাসের চিত্রে। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন