টানা বর্ষণ আর বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে মেঘনা। এর জেরে টানা চার দিন ধরে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় সাত লাখ মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। শত শত পণ্যবাহী ট্রাক দুই প্রান্তে আটকে থাকায় নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি। অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সি-ট্রাক ও ট্রলারে নদী পারাপার করছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে আরও তিন থেকে চার দিন বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে জেলার নদীবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন মূল ভূখণ্ড ও হাতিয়ার মধ্যে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। যদিও সীমিত পরিসরে সি-ট্রাক ও কিছু ট্রলার চলাচল করছে, তবে যানবাহন পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হাতিয়ার চর নলচিরার বাসিন্দা ও প্রবাসী আবসার ইফাজ বলেন, চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে এসেছিলেন। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় কয়েক দিন ধরে মূল ভূখণ্ডেই আটকে আছেন। তিনি জানান, জরুরি প্রয়োজনেই অনেক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী ট্রলার ও সি-ট্রাকে পার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
চেয়ারম্যানঘাটে আটকে থাকা ট্রাক শ্রমিক মঞ্জুর আলম রিফাত বলেন, চার দিন ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যানঘাট ও হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। অনেক ট্রাকে থাকা কাঁচামাল নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
আরেক ট্রাক শ্রমিক মো. রাফিক ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় চালক ও সহকারীদের থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘুমানো, খাবার ও পয়ঃনিষ্কাশন—সব ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফেরি চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে।
হাতিয়া উপকূলীয় নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে নদীতে তীব্র স্রোত ও জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ফেরিঘাটের পন্টুন ডুবে গেছে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে থাকা পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে টানা বর্ষণে নোয়াখালীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমন মৌসুমের বীজতলা প্রস্তুত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
কবিরহাট উপজেলার কৃষক আবুল খায়ের বলেন, নোয়াখালী খালের রিকশাওয়ালার দোকান এলাকায় নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, দ্রুত ওই বাঁধ অপসারণ করা না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই নবনির্মিত বামনী রেগুলেটর চালু করে রিকশাওয়ালার দোকান এলাকার অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হবে। এতে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন যৌথ মহড়া পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান
করিমগঞ্জের হাওরে লাশবাহী নৌকায় ডাকাতি
কর্ণফুলী টানেলে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, দেয়ালের বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত
আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের উপযোগী খাবার ও পানি সংকটের অভিযোগ