টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে তিন দিনে সাত শিশুসহ নিহত ২২ 

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। 

অব্যাহত বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের ঘটনায় গত তিন দিনে অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছে সাত শিশু, যা পুরো ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে। 

বুধবার (৮ জুলাই)  দুপুরে প্রবল বর্ষণের সময় একটি মহিলা হেফজখানার ওপর পাহাড়ঘেঁষা দেয়াল ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ ছাত্রী নিহত হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছে রাশিদা বেগম (১৩), উন্মে নেজাতুল (১৩), উন্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। আরেক শিক্ষার্থীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে আনেন। 

গুরুতর আহত তিন শিশুকে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাদের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ের খাদসংলগ্ন স্থানে নির্মিত একটি দেয়াল ধসে মাদ্রাসার ওপর পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে চট্টগ্রামেও পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। সকালে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড়ধসে মাত্র ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম নিহত হয়। এ ঘটনায় তার মা আহত হয়েছেন। 


একই দিন দুপুরে নগরের চশমা হিল এলাকার মেয়র গলিতে আরেক পাহাড়ধসে ১৩ বছর বয়সী সামিয়া ইসলাম মারা যায়।

এর আগে, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধস এবং দেয়ালধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। 

এছাড়া রোববার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির, জেলা সদর ও পেকুয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরও ১০ জন।

প্রশাসন পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।

HN
আরও পড়ুন