বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা

বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিতি বেড়েছে, কারণ খতিয়ে দেখছে সরকার

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এবার শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সরকারি, মাদ্রাসা ও কারিগরি-তিন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন এত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এবার নির্ধারিত ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তির সবগুলো পূরণ হয়নি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বৃত্তি খালি রয়েছে।

তিনি জানান, অনেক বিদ্যালয় আগে থেকেই নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করে থাকে। এছাড়া এবার নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে এপ্রিল মাসে পরীক্ষা হওয়া, নতুন বই না পাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো উপস্থিতি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৪৫ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। এত বেশি অনুপস্থিতির কারণ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

উপবৃত্তির অর্থ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কারিগরি শিক্ষায় উপবৃত্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে মাসিক ভাতা, ফরম পূরণ ও বই কেনাসহ মোট চার হাজার টাকা সহায়তা পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সহায়তা ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন পাঠ্যবিষয় চালুর আগে শিক্ষক প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ে জেলা পর্যায়ে সহায়তা নিশ্চিত করাসহ একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে এমন অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকার কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবে না। গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃত্তি পরীক্ষার ফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেভাগে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কম্পিউটার অপারেটরের ভুলে কয়েকটি ফল অল্প সময়ের জন্য প্রকাশ হয়েছিল। পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে কর্মস্থলে পাঠানো হবে।

AM
আরও পড়ুন